Nabodisha
 
Nabodisha patrika
পথ চলার ভাবনা 
শিক্ষায় সংস্কৃতি 
শিক্ষার দর্শন 
সমাধানের খোঁজে 
নতুন দিশার 
নতুন উদ্যোগ 
নতুন দিশার নতুন উদ্যোগ
গ্রাম বাংলার শিক্ষাঙ্গনে যে শিখন প্রক্রিয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে আমরা পথ চলছি, তা বাস্তবায়নের জন্য গ্রামের সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ও মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের সচেতনতার জন্য ও শিক্ষামূলক অডিও-ভিস্যুয়াল শো-এর পাশাপাশি আঞ্চলিক সংস্কৃতি চর্চারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত চিহ্নিত স্থানীয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সহায়তায় সপ্তাহে এক থেকে দু’ঘন্টা পড়ুয়াদের জন্য নাচ, গান, নাটক, যাত্রা, অঙ্কন চর্চার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া শরীরচর্চার জন্য খেলাধূলা, পাঠ্যপুস্তক নির্ভর হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য স্কুলে স্কুলে চলছে বীজ পরিচিতি, গাছপালা ও তার পাতা চেনা, শাক-সবজি পরিচিতি, পুষ্টি বাগান, নার্সারী তৈরি ও আরও কত কিছু। কোথাও বাঁশের কাজ, কোথাও মাটির কাজ, কোথাও শোলার কাজ, কোথাও বা কাগজের কাজ, এমনই অনেক কিছু। ছেলেমেয়েদের ব্যবহারিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় অন্যান্য বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি শেখানো হচ্ছে প্রাথমিক চিকিৎসায় ভেষজ ওষুধের ব্যবহার।
বছরে একবার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সব স্কুলগুলিকে নিয়ে আয়োজন করা হয় সৃজন মেলার। যেখানে ছাত্রছাত্রীরা তাদের সৃজন প্রতিভাকে সকলের সামনে মেলে ধরার সুযোগ পায়। দিনভর চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে স্কুলে শিক্ষামূলক ভ্রমণের ব্যবস্থাও করা হয়। যাতে ছাত্রছাত্রীরা স্থনীয় কৃষিকাজ, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে এলাকার ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক স্থান পরিদর্শন করে তা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করতে পারে। পাশাপাশি গ্রীষ্ম বা পুজোর সময়, স্কুল যখন ছুটি থাকে তখনও থেমে থাকে না এইসব উদ্যোগ। স্কুলে পঠন-পাঠন বন্ধ থাকলেও, মাঝেমধ্যেই বসে সৃজনশীল আনন্দের আসর। আমাদের প্রয়াস থাকে এসব কাজ যেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও গ্রাম শিক্ষা কমিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামগ্রিকভাবে গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়। স্কুলে স্কুলে এইসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় শিক্ষা বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালার। এই শিক্ষা-দর্শন ধীরে ধীরে যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে তারজন্য প্রয়োজনে ব্লকস্তরেও এধরনের কর্মশালা করা হয়। এক্ষেত্রে আমাদের ‘নবদিশা’ পত্রিকাকে ভাব বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে ভাবা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
এই উদ্যোগে ভাবা হয়েছে গ্রামের স্কুলছুট যুবক-যুবতীদের কথাও। চাষবাসের পাশাপাশি তাদের জন্য স্থানীয় কর্মভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। যাতে গ্রাম ছেড়ে তাদের অন্যত্র পাড়ি দিতে না হয়। গ্রামে থেকেই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে কিছু বাড়তি অর্থ উপার্জন করতে পারে।
 
  আমাদের কথা আমাদের কাজকর্ম তথ্যসামগ্রী পথিকদের প্রতি
নবদিশা ২০১৯