Nabodisha
 
Nabodisha patrika
আনন্দে শেখা 
সৃজনের বিকাশে 
শিক্ষায় পঞ্চায়েত 
স্থানীয় প্রাসঙ্গিক শিক্ষা 
সৃজন-অঙ্গন 
(আফটারস্কুল) 
স্থানীয় উপযোগী প্রাসঙ্গিক শিক্ষা
নবদিশার ভাবনায় আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি, মানুষের জীবনে কোনও শিক্ষাই ততক্ষণ পর্যন্ত উপযোগী হতে পারে না যতক্ষণ না তা স্থানীয় জ্ঞান নির্ভর বা প্রাসঙ্গিক হয়। আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে গরিব, প্রান্তিক পরিবারের ছেলেমেয়েরাই বেশি আসে। কিন্তু ওই স্কুলগুলোর অধিকাংশ পাঠক্রম শহরকেন্দ্রিক। যা ওইসব পড়ুয়াদের কাছে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। শুধু তাই নয়, গ্রামের চিরাচরিত সামাজিক অবস্থান, স্থানীয় আচার-আচরণ, বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গী এই ভোগসর্বস্ব অর্থনীতিতে শহরকেন্দ্রিক শিক্ষার দাপাদাপিতে আজ সিঁদুরে মেঘ দেখছে। পৃথিবীর বহু বুদ্ধিজীবী আজ এই ভেবে চিন্তিত যে, আধুনিক শহুরে সমাজের উন্নত জীবনযাত্রার ঢেউ ক্রমেই গ্রামাঞ্চলের স্থানীয় আঞ্চলিক ঞ্জান, মূল্যবোধ ও এবং কৃষি সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রাখার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে গ্রামীণ শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের হতাশা বাড়ছে। কারণ গ্রামে থেকেও যে শিক্ষায় তারা শিক্ষিত তাতে গ্রামীণ জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় স্থানীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নির্ভর প্রাসঙ্গিক শিক্ষা তাদের নেই। এরফলে জীবন-জীবিকার স্বার্থে গ্রাম ছেড়ে শহরে পা বাড়াচ্ছেন তারা। কেউ সফল হচ্ছেন, অনেকেই হচ্ছেন না। বিফল হয়ে যারা গ্রামে ফিরছেন তাদের অবস্থা আরও করুণ।
গ্রামাঞ্চলের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের অবস্থাই যদি এমন হয়, তাহলে যারা শুধু অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথাগত আবশ্যিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে তাদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। এক্ষেত্রে গ্রামীণ জীবিকা সহায়ক দক্ষতার প্রশিক্ষণই একমাত্র সমাধান। আমরা মনে করি, পরম্পরাগত গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বজায় রেখে আঞ্চলিক জ্ঞান নির্ভর জীবন-দক্ষতাকে সেখানকার শিক্ষা পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
 
  আমাদের কথা আমাদের কাজকর্ম তথ্যসামগ্রী পথিকদের প্রতি
নবদিশা ২০১৯