Nabodisha
 
Nabodisha patrika
আনন্দে শেখা 
সৃজনের বিকাশে 
শিক্ষায় পঞ্চায়েত 
স্থানীয় প্রাসঙ্গিক শিক্ষা 
সৃজন-অঙ্গন 
(আফটারস্কুল) 
সৃজনের বিকাশে
নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি শৈশব থেকেই শিশুদের সৃজন প্রতিভাকে বিকশিত করা প্রয়োজন। এরফলে একদিকে সে যেমন শিকরের টান অনুভব করতে শিখবে, তেমনই তার মননে জায়গা করে নেবে সৃষ্টির উদ্দীপনা। নবদিশার পথে তাই আমাদের প্রয়াস থাকে, গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদে পড়ুয়ারা তাদের নিজ নিজ স্কুলেই যেন সৃজন প্রতিভাকে শাণিত করার একটা সুযোগ পায়। সে কারণেই গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সেখানকার স্কুলগুলোতে বছরভর চলছে নাচ, গান, কবিতা পাঠ, স্থানীয় লোকসংগীত, নাটক, ছবি আঁকা, এমন নানান কিছু শিখনের আসর। পাশাপাশি স্থানীয় জ্ঞান নির্ভর দক্ষতারও পাঠ দেওয়া হচ্ছে তাদেরকে। কোথাও চলছে শোলা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানোর প্রশিক্ষণ, কোথাও মাটির, কোথাও কাগজের, কোথাও বাঁশের তো কোথাও মুখোশ তৈরির প্রশিক্ষণ। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহায়তায় গ্রামের দক্ষ যুবক-যুবতীরাই স্কুলে স্কুলে এইসব শেখাচ্ছেন।
সৃজন উৎসব
সৃজনের বিকাশে স্কুলে স্কুলে এই উদ্যোগ চলতে থাকার পাশাপাশি ব্যবস্থা করা হয় ক্ষুদে পড়ুয়াদের বিভিন্ন সৃজন প্রতিভাকে মেলে ধরারও, আয়োজন করা হয় স্কুল ভিত্তিক সৃজন উৎসবের। প্রদর্শিত হয় তাদের আঁকা ছবি, বিভিন্ন হাতের কাজ। কেউ নাচছে, কেউ বলছে ছড়া বা কবিতা, কেউ আবার গাইছে গান, এমনই আরও কত কী। এভাবেই শিক্ষক/শিক্ষিকাদের সহায়তায় নিত্যদিনের পড়াশোনার বাইরে বেরিয়ে এসে নিজেদের সহজাত বা অর্জিত প্রতিভাকে স্কুলের স্বল্প পরিসরে তারা অভিভাবক ও উপস্থিত গ্রামবাসীর সামনে তুলে ধরে। প্রশংসার করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে শ্রেণিকক্ষ। অনাবিল আনন্দ, নতুন উদ্যম আর আত্মবিশ্বাস ফুঁটে ওঠে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের চোখেমুখে।
সৃজন মেলা
সারা বছর ধরে স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা সৃজনমূলক যে সমস্ত কাজকর্ম শিখছে বছর শেষে গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে আয়োজিত সৃজনমেলায় মেলে ধরে তাদের সেই প্রতিভাকে। সকাল সকাল স্কুলের পোশাক পড়ে শিক্ষক-শিক্ষিদের সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমায় উৎসাহী ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলের জন্য নির্দিষ্ট স্টলটিকে নিজেদের হাতে সাজিয়ে তোলে তারা। স্টলে স্টলে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দেখভালে গড়ে ওঠা পুষ্টি বাগানের শাক-সবজি ছাড়াও দেখা মেলে তাদের নানান সৃজন প্রতিভার। কোথাও তাদের তৈরি মাটির কাজ, কোথাও শোলার, কোথাও বাঁশের, কোথাও বা কাগজ দিয়ে তৈরি নানান জিনিসের। মেলার মঞ্চে দিনভর চলে নাচ, গান, কবিতা-আবৃত্তি, নাটক আরও কত কী। মেলা শেষে উপস্থিত অতিথিদের হাত দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা সেরা স্কুলকে।
নবদিশার পথে আমরা বিশ্বাস করি, সৃজনের বিকাশের পাশাপাশি তাকে সকলের সামনে মেলে ধরাটাও খুবই জরুরি। দর্শকের বাহবা আর করতালিতে শিল্পী আরও অনুপ্রাণিত হয়, সদা জাগ্রত থাকে তার শিল্পীসত্ত্বা। তাই স্কুলগুলোকে নিয়ে পঞ্চায়েত স্তরে অভিনব এই মেলা আয়োজনের ভাবনা।
 
  আমাদের কথা আমাদের কাজকর্ম তথ্যসামগ্রী পথিকদের প্রতি
নবদিশা ২০১৯